গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কত হলে রক্ত দিতে হয় ? কমে যাওয়ার লক্ষণ কি?
গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কত হলে রক্ত দিতে হয় ? কমে যাওয়ার লক্ষণ কি? ও তার
প্রতিকারগুলো জেনে নিন এক মিনিটে। গর্ব অবস্থায় হিমোগ্লোবিনের গুরুত্ব অত্যন্ত
কারণ হিমোগ্লোবিন রক্ত কণিকার একটি প্রোটিন যা গর্ভবতী মায়ের ও
শিশুর অক্সিজেন সরবরাহ করে থাকে।
গর্ভাবস্থায় কোন নারীর যদি হিমোগ্লোবিনের সমস্যা থাকে তাহলে ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট
ও শিশুর ওজন কমে থাক যাওয়া ও বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। গর্ভাবস্থায়
হিমোগ্লোবিনের যাবতীয় সমস্যা ও তার প্রতিকার নিয়ে, আজকের এই আর্টিকেলটিতে
বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
সূচিপত্রঃ গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কত হলে রক্ত দিতে হয় ? কমে যাওয়ার লক্ষণ কি?
- গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কত হলে রক্ত দিতে হয় ? কমে যাওয়ার লক্ষণ কি?
- গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কত হলে রক্ত দিতে হয় ?
-
গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতার কারণ কি কি?
- গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার লক্ষণ কি?
-
গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা হলে কি খাবার খাওয়া উচিত?
-
যে সকল মায়েদের রক্তস্বল্পতা বেশি হয়?
-
কি কি রোগ থাকলে রক্তস্বল্পতা হতে পারে?
-
গর্ভাবস্থায় রক্ত নিলে কি কি সমস্যা হতে পারে?
-
রক্তস্বল্পতার রিপোর্ট দেখে কিভাবে বুঝবেন?
-
গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ ও চিকিৎসা
গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কত হলে রক্ত দিতে হয় ? কমে যাওয়ার লক্ষণ কি?
গর্ভাবস্থায় প্রায় সকল মায়েদের একটি সাধারন সমস্যা হচ্ছে
রক্তস্বল্পতা। তবে গর্ভকালীন অবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম অবলম্বন করলে এই
রক্তস্বল্পতার সমস্যা হয় না। গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন গর্ভবতী মা ও
গর্বের শিশু উভয়ের সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। সাধারণত মানব দেহের
রক্তে তিন ধরনের কোষ আছে। যেমন-শ্বেত রক্তকণিক, লোহিত রক্ত কণিক ও
আনুচক্রিকা। হিমোগ্লোবিন হল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন যা রক্ত কণিকায়
(RBC) উপস্থিত থাকে ও শরীরের টিস্যু গুলোকে অক্সিজেনে পরিণত করে।
গর্ভকালীন বেশিরভাগ নারীরা রক্ত শূন্যতায় ভোগেন যা আয়রনের ঘাটতি কারনে
রক্তশূন্য দেখা যায়। তবে সমস্যার অন্যতম কারণ অসচেতনতা। গর্ভকালীন
Hemoglobin একটি সাধারন সমস্যা তবে সাধারণ এই পর্যায়েই মাঝেমধ্যে
এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, যা একজন গর্ভবতী নারী মৃত্যুর
ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কত হলে রক্ত দিতে হয়
ও কমে যাওয়ার লক্ষণ ও প্রতিকার সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই আর্টিকেলটি
লেখা হয়েছে। যা একজন গর্ভকালীন মায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে
বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হল।
গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কত হলে রক্ত দিতে হয় ?
গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কত হলে রক্ত দিতে হয় ? সাধারণত গর্ভাবস্থায়
হিমোগ্লোবিন 10 g/dL (grams per deciliter) এর নিচে নেমে গেলে রক্তশূন্যতা
ধরা হয়।
স্বাভাবিক হিমোগ্লোবিনের মাত্রা
- সাধারণ মহিলাদের ক্ষেত্রে ঃ 12-16 g/dL
- গর্ভাবস্থায় মহিলাদের ক্ষেত্রেঃ 11-14 g/dL
গর্ভাবস্থায় কখন রক্তদানের প্রয়োজন হয়
- 08-09 g/dL এর কাছাকাছি বা কম হলে রক্তদানের প্রয়োজন হয়।
- তবে অনেক সময়, হিমোগ্লোবিন স্বাভাবিক থাকলেও রক্তদানের প্রয়োজন হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতার কারণ কি কি?
গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কত হলে রক্ত দিতে হয় ? কমে যাওয়ার লক্ষণ কি? জানার
সাথে সাথে জেনে নিন গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতার কারণ কি কি?
- আয়রনের ঘাটতিঃ রক্তস্বল্পতার সাধারণ সমস্যা আয়রনের ঘাটতি। একজন গর্ভবতী নারীর শরীরে প্রচুর পরিমাণে আয়রনের প্রয়োজন হয়। যা সাধারণতো খাদ্যের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব।
- ফলিক অ্যাসিড ও ভিটামিন B12 ঘাটতিঃ ফলিক অ্যাসিড ও ভিটামিন B12 ঘাটতি হতে পারে গর্ভাবস্থায় তবে মাংস, মাছ, ডিম ও দুগ্ধজাত খাবার খেলে, ঘাটতি পূরণ হয়।
-
বারবার গর্ভধারণ ও কম বিরতিতে সন্তান জন্মদানঃ বারবার গর্ভধারণ ও
গর্ভপাত এবং অপেক্ষাকৃত কম বিরতি নিয়ে সন্তান জন্মদান করলে, রক্তস্বল্পতা
দেখা দেয়।
-
অতিরিক্ত বমি ও পর্যাপ্ত খাবার না খাওয়াঃ গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত বমি ও
পর্যাপ্ত খাবার বা খাবারে আনিয়া থাকলে, রক্তশূন্যতা হয়।
-
থ্যালাসেমিয়াঃ থ্যালাসেমিয়ার সমস্যা থাকলে, শরীরের খুব কম লোহিত
রক্তকণিকা তৈরি হয় যার রক্তশূন্যতা বাড়াতে পারে।
- পূর্বে থেকে অ্যানিমিয়া থাকাঃ পূর্বে থেকে অ্যানিমিয়া থাকা হচ্ছে আগে দেখি রক্তস্বল্পতা থাকা। সাধারণত চিকিৎসার মাধ্যমে বুঝা যায় অথবা ক্লান্তি ও দুর্বলতা হয়। গর্ভাবস্থায় শরীরে আয়রনের অভাবেও এ সমস্যা হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার লক্ষণ কি?
গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও অক্সিজেন
সরবরাহে হিমোগ্লোবিন অত্যন্ত জরুরী। তাই বিভিন্ন লক্ষণ দেখে বুঝে নিন ও
দ্রুত এর প্রতিকার করুন। যে সকল লক্ষণ দেখলে বুঝবেন, গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন
কমে গিয়েছে তা এমনি নিম্নে দেওয়া হল।
- ক্লান্তী ও অবসাদঃ গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কমে গেলে, চরম ক্লান্তি ও অবসাদ হয়।
-
মাথা ঘোরাঃ মাথা ঘোরাও ঝিমঝিম ভাব হতে পারে।
-
চোখ অন্ধকারঃ হিমোগ্লোবেনেরে মাত্রা কমে গেলে চোখ অন্ধকার হতে
পারে।
-
অস্বাভাবিক শরীরের পরিবর্তনঃ চোখের নিচে, ত্বক, ঠোঁট ও নাখের পরিবর্তন
লক্ষ্য করলে।
-
শ্বাসকষ্টঃ অল্প পরিশ্রমে, শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে।
-
হার্ট বিটঃ হার্ট বিট দ্রুত কাজ করা বুক ধরফর করলে।
-
ঠান্ডা অনুভব হওয়াঃ রক্ত চলাচল অস্বাভাবিক হলে হাত পা-ঠান্ডা হতে
পারে।
গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা হলে কি খাবার খাওয়া উচিত?
গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কত হলে রক্ত দিতে হয় ? কমে যাওয়ার লক্ষণ
কি? জেনে নিন এবং সাথে জেনে নিন গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা হলে কোন ধরনের
খাবার খাওয়া উচিত।
গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা হলে আইরন ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার অত্যন্ত
জরুরী। যেমন
- মাংস
- মুরগি
- মাছ
- ডিম
- কচু শাক
- পালং শাক
- ডাল
- গাছপালা
- ফুল ও বাঁধাকপি
- খেজুর
- কিসমিস
এ সকল খাবার ছাড়াও বিভিন্ন ফল রয়েছে। যেমন-পেয়ারা, কমলালেবু, কলা ও
বিভিন্ন ফলের রস এবং ফল।
যে সকল মায়েদের রক্তস্বল্পতা বেশি হয়?
সাধারণত প্রায় সকল মেয়েদের গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা দেখা দেখা যায় তবে
কিছু কিছু মেয়েদের রক্তস্বল্পতা বেশি হয়। যে সকল মায়েদের রক্তস্বল্পতা
বেশি হয়, তা নিম্নে দেওয়া হল।
- একাধিক সন্তানঃ যমজ সন্তান বা বেশি সন্তান গর্ভধারণ করলে, শরীরে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়।
- কম বিরতি নিয়ে সন্তান জন্ম দিলেঃ একটি সন্তান জন্ম দেওয়ার পর, নির্দেশ সময়ের আগে গর্ভধারণ করলে, শরীরে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়।
- অতিরিক্ত বমি করলেঃ গর্ভাবস্থায় প্রথম প্রথম অতিরিক্ত বমি করলে, রক্তস্বল্পতা হতে পারে।
কি কি রোগ থাকলে গর্ভকালীন অবস্থায় রক্তস্বল্পতা হতে পারে?
যে সকল পূর্বের রোগের কারণে, গর্ভকালীন অবস্থায় রক্তস্বল্পতা হতে পারে।
নিম্নে দেওয়া হল-
- বংশগত রোগ থাকলে।
- শরীরের পুষ্টির অভাব থাকলে।
- দীর্ঘদিন জটিল রোগ থাকলে।
- অন্ত্রের সমস্যা থাকলে।
- ঘন ঘন গর্ভধারণ করলে।
-
মাসিকের সমস্যা থাকলে ও গর্ভাবস্থার আগে অতিরিক্ত মাসিক এবং বিভিন্ন কারণে
রক্তক্ষরণ হলে।
গর্ভাবস্থায় রক্ত নিলে কি কি সমস্যা হতে পারে?
সাধারণত সকল মহিলাদের গর্ভাবস্থায় শরীরের রক্তের প্রয়োজন হয়। এমন অবস্থায়
আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে রক্ত নিয়ে থাকি অর্থাৎ বিভিন্ন রকম মানুষের কাছ
থেকে। তবে রক্ত সঞ্চালনের সময় অনেক ক্ষেত্রে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হয়। যা
গর্ভাবস্থায় মা ও বাচ্চার উপরে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম রক্ত ভাইরাস জনিত সমস্যা থাকে যা শিশুকে সংক্রমিত করতে
পারে। এবং গর্ভবতী নারীর শরীরে বিভিন্ন অ্যান্টিবডি হতে পারে যা গর্ভাবস্থায় মা
ও শিশুর জন্য বিপদজনক হতে পারে। তাই অবশ্যই গর্ব গর্ভাবস্থায় রক্ত নিলে, অবশ্যই
রক্ত পরীক্ষা করে নিন। ডাক্তারের অনুমতি ব্যতীত রক্ত নেওয়া থেকে বিরত
থাকুন।
রক্তস্বল্পতার রিপোর্ট দেখে কিভাবে বুঝবেন?
গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কত হলে রক্ত দিতে হয় ? কমে যাওয়ার লক্ষণ কি? এ সকল
সমস্যা বোঝা যাবে, আপনার হাতে থাকা রিপোর্টটি দেখে। তবে অবশ্যই এর জন্য প্রথমে
জেনে নিতে হবে, এভাবে রিপোর্ট দেখতে হয়। তাই আসুন আমরা জেনে নেই, রক্তস্বল্পতা
রিপোর্ট দেখে কিভাবে বুঝব।
আরও পড়ুনঃ মায়োলাক্স 50 এর কাজ কি ও খাওয়ার নিয়ম
সাধারণ মহিলা অথবা গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে
- রক্তের CBC রিপোর্টে হিমোগ্লোবিন Hb12 এর কম হলে, রক্তস্বল্পতা হয়।
- (এমসিভি) MCV83 এর কম হলে রক্তস্বল্পতা হয়।
গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ ও চিকিৎসা
গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ ও চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই মনে
করেন, রক্তস্বল্পতা মানেই রক্ত নেওয়া তবে প্রকৃতপক্ষে রক্তস্বল্পতা চিকিৎসা মানে
এই রক্ত নেওয়া নয়। তাই গর্ভাবস্থায় রক্তের স্বল্পতা প্রতিরোধ ও চিকিৎসা
ব্যবস্থা জেনে নিন।
গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধঃ গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধের
সর্বোত্তম উপায় হলো স্বাস্থ্যকর খাবার ও পর্যাপ্ত ভিটামিন গ্রহণ। গর্ভাবস্থায়
প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। যে সকল খাবার খাবেন, সে
সকল খাবার উপরের পয়েন্টে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।
গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতার চিকিৎসাঃ গর্ভাবস্থায় একজন নারীর নিয়মিত
স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা জরুরী। রক্তস্বল্পতা অনুভব করলে বা আয়রনের ঘাটতি হলে,
আইরন সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার যায়। ঘরোয়া ভাবে খাবার খাওয়ার পরেও
রক্তস্বল্পতা অনুভব করলে, সাথে সাথে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
উপসংহারঃ গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কত হলে রক্ত দিতে হয় ? কমে যাওয়ার লক্ষণ কি?
গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কত হলে রক্ত দিতে হয় ? কমে যাওয়ার লক্ষণ কি?
ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আর্টিকেলটি সাজানো হয়েছে। গর্ভাবস্থায়
হিমোগ্লোবিনের যত্ন নেওয়া মানেই, আপনার শিশুর ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করা। শুধু শিশু
নয় একজন গর্ভবতী নারীর জন্যও হিমোগ্লোবিন অত্যন্ত জরুরি।
মা ও শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য অবশ্যই "হিমোগ্লোবিন" সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে
নিন। রক্তে হিমোগ্লোবিনের প্রধান কাজ প্রয়োজনীয়তা একটি ফুসফুস থেকে শরীরের
সমস্ত কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয় যা একজন গর্ভবতী নারীর সঠিক রাখা অত্যন্ত
জরুরি। তাই আর্টিকেলটি বিস্তারিত পড়ে, গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিনের সমস্ত ধারণা
নিন। সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ



ইজনাির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url